বৃষ্টির ছড়া ফর্রুখ আহমদ, আমাদের দেশ জসীমউদ্দীন, একুশের কবিতা আল মাহমুদ, মানুষের সেবা আব্দুল কাদির

 বৃষ্টির ছড়া 

ফর্রুখ আহমদ


বিষ্টি এল কাশবনে জাগল সাড়া ঘাস বনে, বকের সারি কোথারে লুকিয়ে গেল বাঁশবনে। নদীতে নাই খেয়া যে, ডাকল দুলে দেয়া যে, কোন সে বনের আড়ালে ফুটল আবার কেয়া যে। গাঁয়ের নামটি হাটখোলা, বিষ্টি বাদল দেয় দোলা, রাখাল ছেলে মেঘ দেখে যায় দাঁড়িয়ে পথ-ভোলা। মেঘের আঁধার মন টানে, যায় সে ছুটে কোনখানে আউশ ধানের মাঠ ছেড়ে আমন ধানের দেশ পানে।

আমাদের দেশ 
জসীমউদ্দীন

 ক্ষেতের পরে ক্ষেত চলেছে ------ ক্ষেতের নাহি শেষ, সবুজ হাওয়ায় দুলছে ও কার এলোমেলো কেশ। সেই কেশেতে গয়না পরায় প্রজাপতির ঝাঁক, চঞ্চুতে জল ছিটায় সেথা কালো কালো কাক। সাদা সাদা বক কনেরা রচে সেথায় মালা, শরৎকালের শিশির সেথা জ্বালায় মানিক আলা। তারি মাথায় থোকায় থোকায় দোলে ধানের ছড়া, মার আঁচলের পরশ যেন সকল অভাবহরা। বনের পরে চলেছে- বনের নাহি শেষ, ফুলের ফলের সুবাস ভরা এ কোন পরীর দেশ। নিবিড় ছায়ায় আঁধার করা পাতার পারাবার, রবিব আলো খন্ড হয়ে নাচছে পায়ে তার। কচি কচি বনের পাতা কাঁপছে তারি সুরে, ছোট ছোট ছায়ার গুঁড়ো তলায় নাচে ঘুরে। মাথার পরে কালো কালো মেঘরা আসে তেড়ে, বুনো হাতির দল এসেছে আকাশখানি ছেড়ে। নদীর পরে নদী গেছে ----- নদীর নাহি শেষ, কত অজানা গাঁ পেরিয়ে, কত না ----- জানা দেশ। সাত সাগরের পণ্য চলে সওদাগরের নায়, সুধার ধারা গড়িয়ে পড়ে গঞ্জ-নগর ছায়। কত মিনার, সৌধ-চূড়ার কোল ঘেঁসিয়ে যায়, কত শহর-হাট-বন্দর-বাজার ফেলে বাঁয়। কত নায়ের ভাটিয়ালির গানে উদাস হয়ে, নদীর পরে নদী চলে কোন অজানায় বয়ে।


একুশের কবিতা

 আল মাহমুদ


ফেব্রুয়ারীর একুশ তারিখ, দুপুর বেলার অক্ত, বৃষ্টি নামে, বৃয্টি কোথায় - বরকতের রক্ত। হাজার যুগের সূর্যতাপে, জ্বলবে এমন লাল যে, সেই লোহিতেই লাল হয়েছে, কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে। প্রভাতফেরির মিছিল যাবে, ছড়াও ফুলের বন্যা- বিষাদগীতি গাইছে পথে, তিতুমীরের কন্যা। প্রভাতফেরি, প্রভাতফেরি, আমায় নেবে সঙ্গে? বাংলা আমার বচন, আমি জন্মেছি এই বঙ্গে।

মানুষের সেবা 
 আব্দুল কাদির


হাশরের দিন বলিবেন খোদা, 'হে আদম-সন্তান, তুমি মোরে সেবা কর নাই যবে ছিনু রোগে অজ্ঞান। মানুষ বলিবে, 'তুমি প্রভু করতার, আমরা কেমনে লইব তোমার পরিচর্যার ভার? বলিবেন খোদা, 'দেখনি মানুষ কেঁদেছে রোগের ঘোরে, তারি শুশ্রূষা করিলে তুমি যে সেথায় পাইতে মোরে'। খোদা বলিবেন, 'হে আদম-সন্তান, আমি চেয়েছিনু ক্ষুধার অন্ন, তুমি কর নাই দান'। মানুষ বলিবে, 'তুমি জগতের প্রভু? আমরা কেমনে খাওয়াব তোমারে, সে কাজ কি হয় কভু? বলিবেন খোদা, 'ক্ষধিত বান্দা গিয়েছিল তব দ্বারে, মোর কাছে তুমি ফিরে পেতে যদি খাওয়াইতে তারে। পুনরায় খোদা বলিবেন,'শোন হে আদম-সন্তান, পিপাসিত হয়ে গিয়েছিনু আমি করাওনি জলপান।' মানুষ বলিবে, 'তুমি জগতের স্বামী, তোমারে কেমনে পিয়াইব বারি, অধম বান্দা আমি?' বলিবেন খোদা, 'তৃষ্ণার্ত তোমা ডেকেছিল জল আশে তারে যদি জল দিতে তুমি, তবে পাইতে আমায় পাশে। ' [হাদিস অনুসরণে]



Post a Comment

0 Comments